নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম’ এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে সংগঠনের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই কিসের অগ্রিম বিল? দেশের এখনো এত খারাপ অবস্থা হয়নি যে অগ্রিম বিল নিতে হবে। প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের জন্য বাসা বাড়িতে যাওয়া যাবে না। মিটার স্থাপনকারীরা আমাদের ভাই। আমরা আপনাদের সাথে দুর্ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু কেউ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করতে আসলে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে।’
মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘এই মিটার স্থাপন থেকে ডিপিডিসি সরে না আসলে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা জেলে যাব, মামলার আসামি হব, তারপরেও প্রি-পেইড মিটার লাগাতে দেব না।’
আন্দোলনরতরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দাবি করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ নিয়ে যে ধরনের তেলেসমাতি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী আপনি এগুলি দেখুন। প্রি-পেইড মিটারের খারাপ দিকগুলি উপলব্ধি করে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে প্রি-পেইড মিটার বাতিল করুন।’
সংগঠনের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন, সংগঠনের উপদেষ্টা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায় প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—
প্রথমত, প্রিপেইড মিটারের সব কার্যক্রম বাতিল করতে হবে। গ্রাহকদের না জানিয়ে যেসব প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো খুলে আগের ডিজিটাল মিটার ফিরিয়ে দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বাতিল করতে হবে। স্ল্যাবের নামে তিন গুণ বিল নেওয়ার কৌশল বন্ধ করে ৫০০ ইউনিটের নিচের সব স্ল্যাব বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ বাতিল করতে হবে।
তৃতীয়ত, জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর ‘মিথ্যাচার’ বন্ধ করতে হবে।
সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় আন্দোলনকারীরা পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১২ থেকে ২৪ আগস্ট গণসংযোগ, ২৫ আগস্ট গণঅবস্থান এবং ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনে গণঅবস্থান।