নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাণীনগরের বিশিয়া গ্রামের স্বপন (২৮) ও হাসান আলী (২৫), ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মকর্তা সুজন (২৭) ও আবু তালেব (২২), অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২) ও মোটরসাইকেলমালিক রাব্বি আলী।
এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার ও অফিস সহায়ক আদমদীঘি রেলগেট থেকে ৩৪ লাখ টাকা তুলে আবাদপুকুর বাজার শাখার উদ্দেশে মোটরসাইকেলে রওনা হন। বেলা ১টার দিকে রাণীনগরের বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেল তাঁদের পথ রোধ করে। পরে লোহার স্টিক দিয়ে তাঁদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দিন রাতেই তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাণীনগর থানা-পুলিশ প্রাথমিক ক্লু উদ্ঘাটন করে এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ব্যাংকের অফিস সহায়ক রাসেল, কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া খেলে সাত থেকে আট লাখ টাকা হেরে যান। গ্রাহকদের টাকা জমা না দিয়ে জুয়ায় উড়িয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েন তাঁরা। পরে স্বপন, হাসানসহ সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘ এক মাস ধরে এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান অফিস সহায়ক রাসেল। টাকা নিয়ে ফেরার সময় রাসেল নিয়মিত গোপনে ছিনতাইকারীদের নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছিলেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্বপন ও হাসান তাঁদের পথ রোধ করে আক্রমণ করেন। এ সময় ক্যাশিয়ার নাজমুল প্রকৃত ভিকটিম হওয়ায় তাঁকে লোহার পাইপ দিয়ে সত্যি সত্যিই মারধর করা হয় আর টাকা বহনকারী রাসেল ছিলেন সাজানো বা মিথ্যা ভিকটিম।
এসপি আরও বলেন, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী ১০ লাখ টাকা ও অবশিষ্ট টাকা অন্য ছিনতাইকারীরা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মধ্যে ছিনতাইকারী স্বপন ও হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ টাকা দিয়ে দিনাজপুর পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক (ওসি ডিবি) হাসিবুল্লাহ হাসিব, নওগাঁ সদর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান, রাণীনগর থানা-পুলিশের ওসি জাকারিয়া মণ্ডলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।