হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

‘জয় বাংলা’ স্লোগানের অভিযোগে দুই যুবককে মারধরের পর পুলিশে দিল ছাত্রদল

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি 

দুই যুবককে মারধরের পর পুলিশের কাছে তুলে দেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর বদলগাছীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে মশাল মিছিল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করার অভিযোগে দুই যুবককে মারধরের পর পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মশাল মিছিল করার পর গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পুরাতন ব্রিজ এলাকা থেকে তাঁদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।

আটক দুজন হলেন উপজেলার হঠাৎপাড়া এলাকার এমা হোসেনের ছেলে মো. ইমরান হোসেন (২৩) এবং জিদিরপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আরেফিন (২৩)। তাঁরা নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য বলে দাবি করেছে উপজেলা ছাত্রদল।

উপজেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে থানার কাছাকাছি ছোট যমুনা নদীর নতুন ব্রিজ এলাকায় ইমরানসহ কয়েকজন মশাল মিছিল করেন। ওই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এর জের ধরে রোববার সন্ধ্যায় ইমরান ও আরেফিনকে পুরাতন ব্রিজ এলাকায় দেখতে পেয়ে আটক করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁদের মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে মশাল মিছিলের বিষয়টি এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করেছিল। এর জেরেই ইমরান ও আরেফিনকে আটক ও মারধর করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বলেন, কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে নয়, তাঁদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে ইমরান ও আরেফিনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মথুরাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. মুনসুর আলী বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য ইমরান হোসেন কয়েক মাস ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে মশাল মিছিল করে আসছিল। শুক্রবার তাঁর ফেসবুক আইডিতে মশাল মিছিল ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য ইমরান হোসেন ও আরেফিন নামে দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।