হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না চাহিদানুযায়ী সার, ভোগান্তিতে কৃষক

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি 

সার নিতে আসা কৃষকদের দীর্ঘ অপেক্ষা। ছবি: আজকের পত্রিকা

আউশ ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। এখন আমন ধান রোপণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কৃষকেরা। এরই মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী সার সংগ্রহ করতে বিভিন্ন ডিলারের দোকানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা। এক দোকানে ইউরিয়া পাওয়া গেলেও মিলছে না ডিএপি বা এমওপি। ফলে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহে একাধিক দোকানে ছুটতে হচ্ছে কৃষকদের।

গতকাল রোববার ও আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাওন ট্রেডার্স ও আলম ট্রেডার্সে সার নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কৃষকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। এতে জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সময় নষ্ট হচ্ছে।

সদর ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল আলিম, শমসের আলী ও মোস্তফা বলেন, প্রয়োজনীয় সার একসঙ্গে না পাওয়ায় এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, জমিতে কাজ করবেন না কি সারের জন্য লাইনে দাঁড়াবেন? সময়মতো পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বদলগাছীতে ১০টি বিসিআইসি ও ১৯টি বিএডিসি সার ডিলার এবং ৭২টি খুচরা সার বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। চলতি বছর উপজেলায় ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা ৬ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১ হাজার ৬১৮, ডিএপি ৪ হাজার ১০০ এবং এমওপি ২ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন। চলতি মাসে ইউরিয়া ৩১২, টিএসপি ১৮৮, ডিএপি ৩৩৩ ও এমওপি ২৮০ মেট্রিক টন বরাদ্দ রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, সম্প্রতি কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রির ঘটনাও ঘটছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই।

সদরের শাওন ট্রেডার্সের মালিক মো. শামসুল হক বলেন, তাঁর ডিলারের মাধ্যমে ডিএপি ও এমওপি দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকদের ইউরিয়ার চাহিদা বেশি হওয়ায় দীর্ঘ লাইন হয়েছে। ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি একসঙ্গে বরাদ্দ পেলে এমন পরিস্থিতি হতো না বলে তিনি জানান।

আরেক ডিলার আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম বলেন, সার নিতে দীর্ঘ লাইন হওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে রোববার সকাল থেকে ইউরিয়া দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে সব ধরনের সার বরাদ্দ পেলে কৃষকদের ভোগান্তি কমত।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলায় সারের সংকট নেই। সদর ইউনিয়নে চলতি বছর ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। সারের জন্য দীর্ঘ লাইন হওয়ায় কৃষি বিভাগ বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে সাপাহার উপজেলা থেকে অতিরিক্ত ৭০ মেট্রিক টন সার আনা হয়েছে। কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ডিলারের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং কৃষি বিভাগের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সার বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।