ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্য দিবসের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ কমিটি গঠন করা হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, গতকালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক আরও জানান, এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। তিনি নিজে সদস্যসচিবের দায়িত্বে আছেন। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, লিফটে আগুন লাগার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তদন্ত কমিটি আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, থাকলে তা চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে। তদন্তে অন্য কোনো বিষয় উঠে এলে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, নতুন ভবনের অষ্টম তলার লিফট কন্ট্রোল রুমে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের পর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীরা। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেকে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। এ সময় সিঁড়িতে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির মধ্যে একটি বন্ধ থাকায় রোগী ও স্বজনেরা একটি সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার জানান, বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। তবে এতে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এর মধ্যেই ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বার্তা পাঠিয়ে হাজেরা বেগম, শাহজাহান, রমজান, জাহানারা, কুলসুমা ও অজ্ঞাত এক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই তথ্য নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়। পরে রাত ১টার দিকে বিভাগীয় কমিশনার এসএম হুমায়ূন কবির সরকার সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ মারা যাওয়ার প্রমাণ তাঁরা পাননি।
তবে আগুনের পর হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে প্রশাসন। কারও হাত-পা কেটে যাওয়া কিংবা মাথায় আঘাত লাগার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার। তবে ধোঁয়ায় কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।