ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুর ঘাটের ইজারাদারের কর্মচারী সারোয়ার জাহানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।
আজ বুধবার বেলা ১টা ৫৯ মিনিটের দিকে ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ইউএনও এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় দেওয়ার পাশাপাশি লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা গেছে। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
ইজারাদার পক্ষের দাবি, অভিযানের সময় ইজারাদারের কর্মী সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউএনওর নেতৃত্বে আনসার ও র্যাবের সদস্যরা বালু বিক্রির পয়েন্টে যান। সেখানে ইউএনও কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে ইউএনও তাঁকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন।
এরপর র্যাবের এক সদস্য সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ারকে কয়েকবার আঘাত করেন।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।
ইজারাদারের পক্ষের দাবি, সারোয়ারকে পরে র্যাবের গাড়িতে করে ত্রিশালের ধলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলে স্বজন ও ইজারাদার পক্ষের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে বালুমহালটি ইজারা নিয়েছি। ইজারার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। আমাদের কর্মী অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। এরপরই তাঁকে মারধর করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মোবাইলে ফোন দিয়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’