ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে এটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে জনবলসংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শতাব্দীপ্রাচীন স্টেশনটির ভগ্নদশা। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামো দিয়ে এই পুরোনো স্টেশনটিকে অত্যাধুনিক করা হোক।
জানা গেছে, ব্যস্ততম এই জংশনে প্রতিদিন তিনটি আন্তনগর ট্রেন, দুটি কমিউটার, দুটি মেইল ও একটি লোকাল ট্রেন আসা-যাওয়া করে। জংশনে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী ট্রেনে ওঠানামা করে। তবে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। পুরো স্টেশনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। স্টেশনের একমাত্র ফুটওভারব্রিজটি বহুদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দালানকোঠা, যাত্রীছাউনি, প্ল্যাটফর্ম, স্লিপার ও বিভিন্ন অবকাঠামোর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক বছর আগে। ওয়েটিং রুমসহ টয়লেটগুলোর পানির সাপ্লাই লাইন বহুদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার পরিদর্শন করে গেলেও অবকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি আজও।
ঢাকা থেকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত বিজয় এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত নাসিরাবাদ নামে দুটি মেইল ট্রেন, ঢাকা থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাই পর্যন্ত বলাকা ও ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত মহুয়া কমিউটার ট্রেন গৌরীপুর জংশন হয়ে যাওয়া-আসা করে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে জারিয়া পর্যন্ত একটি লোকাল ট্রেন এই জংশন হয়ে চারবার আপ-ডাউন করে। এত ব্যস্ত জংশন হওয়ার পরও এটির ভাগ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
গৌরীপুর পৌর শহরের নতুন বাজার মহল্লার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত যাত্রী যাতায়াত করে এই স্টেশন হয়ে, অথচ বসার একটু জায়গা নাই, বৃষ্টিতে ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে, যাত্রীরা চা-স্টলে বসে থাকেন ট্রেনের অপেক্ষায়। কেবল শুনি, স্টেশনের উন্নয়ন হবে, ৪০ বছর স্টেশনে কাটিয়ে দিলাম, কত সরকার এল-গেল এই স্টেশনের উন্নয়ন আর হলো না।’
গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার সফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্টেশনের অবকাঠামো ব্রিটিশ আমলের। স্টেশনে আলাদা ৯টি দপ্তরে ৩৫ জনের স্থলে জনবল আছে ২৪ জন। লাইন ছয়টির স্থলে তিনটি সচল আছে। বিশেষ করে ট্রেনের সিগন্যাল ও লাইন পরিবর্তনের জন্য স্টেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্যানেল বোর্ডটি অনেক পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। এটি প্রায়ই কাজ করে না। সিগন্যালম্যান তিনজনের স্থলে আছে একজন, নিরাপত্তাকর্মী নয়জনের স্থলে পাঁচজন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছয়জনের স্থলে আছে একজন। তিনি আরও বলেন, স্টেশনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সবকিছু অবহিত করা হয়েছে। তাঁরা স্টেশনটি পরিদর্শনও করে গেছেন।
গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম বলেন, ‘জনবলসংকট থাকলেও আমরা ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সবার অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে।’
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু সংস্কারের জন্য তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদা পাঠিয়েছেন। আশা করছেন, এ ব্যাপারে শিগগির বরাদ্দ পাবেন। গৌরীপুরে অত্যাধুনিক রিমডেলিং স্টেশন দাবিকে সময়োপযোগী ও যৌক্তিক উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছাকে অগ্রাধিকার দেন তিনি।