ময়মনসিংহে গ্যাস-সংকটে সিএনজিচালিত স্টেশনগুলোয় শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে চালক ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই অবস্থায় দফায় দফায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নগরের ঢাকা-ময়মনসিংহ বাইপাস ও শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ছয়টি সিএনজি স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষমাণ শত শত গাড়ির সারি দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় এক মাস ধরে তীব্র গ্যাস-সংকট চলছে। গত চার দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
গ্যাস-সংকটের প্রতিবাদে আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চালকেরা। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তি বাড়ে। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
একই দাবিতে বিকেল ৫টার দিকে তিতাস গ্যাস অফিসের সামনে আবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। এতে আবারও যানবাহন আটকে ভোগান্তি তৈরি হয়।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক শাহীন মিয়া বলেন, ‘গ্যাসের জন্য রাত ৪টা থেকে অপেক্ষা করছি। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাচ্ছি না। আমি নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে এসেছি। গত এক মাস ধরে আমাদের এই ভোগান্তি চলছে। কিন্তু চার দিন বেশি সমস্যা হচ্ছে। তাই পেটের তাগিদে আন্দোলন করছি। নিজের বাড়িতে যাবে, সেই গ্যাস পর্যন্ত নেই।'
আরেক চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাত ৩টার সময় পাম্পে সিরিয়াল দিয়েছি গ্যাসের। গ্যাস তো দূরের কথা, পাম্পের কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না। ১০০ টাকার গ্যাস দিলেও বাড়িতে ফিরতে পারতাম।’
চালক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘সকাল ৬টা থেকে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছি। সারা দিন খাওয়া নাই। পকেটে ৪০০ টাকা ছিল, এখন ১৫০ টাকা আছে। কেমনে কী করব, বুঝতে পারতেছি না।’
চালক নাঈম হাসান বলেন, ‘প্রতি মাসে সিএনজির ১৮ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। তারপর সংসার খরচ তো আছেই। গত চার দিন কোনো ভাড়ায় যেতে পারছি না। গ্যাস একেবারে নেই বললেই চলে। গ্যাস কখন দিবে, তার কোনো নির্দেশনাও নেই। আমরা পেটের ক্ষুধায় আন্দোলন করছি।'
স্টার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বানু চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা গ্যাস পেলেই দিতে পারব। কিন্তু কখন পাব, তা জানি না। ভালুকা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ময়মনসিংহে প্রেসার হচ্ছে না। আর এটা তিতাস কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।’
ময়মনসিংহ তিতাস গ্যাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবির বলেন, ‘গ্যাস-সংকট জাতীয় সমস্যা। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। চালকদের সকালেও ভালোভাবে বলা হয়েছে। তারপরও তারা আন্দোলন করছে। বিষয়টি প্রশাসন দেখবে।’
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাস না পেয়ে চালকেরা ক্ষুব্ধ। তাদের আমরাও বোঝানোর চেষ্টা করছি। তবে সমস্যা সমাধান হলেই ভালো। বর্তমানে সব রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।'