ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দৈনিক ডেসটিনির উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জাল হোসেনের বিরুদ্ধে করা মাদক মামলা প্রত্যাহার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল ১১টায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের উদ্যোগে এ মানববন্ধন হয়। এতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে তোফাজ্জাল হোসেনকে আটকে রেখে মারধর ও রশি দিয়ে বেঁধে রাখার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের দাবি জানান।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকায় স্থানীয় লোকজন তোফাজ্জাল হোসেনকে একটি বাড়িতে আটক করেন। সেখানে তাঁকে মারধর ও রশি দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের ভাষ্য, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তারা তোফাজ্জালকে হেফাজতে নেয়। এ সময় আশরাফুল আলম নামে একজন সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তোফাজ্জালের পরনের আকাশি রঙের শার্টের পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৯টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৭টি সবুজ ও দুটি গোলাপি রঙের। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় দুই গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ হাজার ৫০০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দের কথাও বলা হয়েছে।
পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর থানার এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তোফাজ্জাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে তোফাজ্জালের সহকর্মী ও পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ করা হয়েছে। গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. শাহজাহান কবির হীরা ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তোফাজ্জালের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে ঘটনাস্থলের ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, জব্দতালিকা, উদ্ধার করা মাদকের পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক, আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাংবাদিককে মারধর বা আটকে রাখার অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আমিন, গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. শাহজাহান কবির হীরাসহ সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর মুক্তির দাবি জানান।