ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সন্দেহে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়ার ঘটনার পাঁচ দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির এক নেতার গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বসতঘরের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ডোমঘাটা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম সাইফুল্লাহ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ধোবাউড়া উপজেলার ডোমঘাটা গ্রামের আলী হোসেন ব্যাপারীর ছেলে।
ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রশক্তির সংগঠক আলী হোসেন বলেন, ‘ভোররাতে সাইফুল্লাহর বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে সকালে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সাইফুল্লাহর বাড়িতে লাকড়ির ঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়; যাতে পুরো বাড়িতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আগুন লাগার বিষয়টি টের পাওয়ায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় আগুন দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দুর্বৃত্তরা শুধু বাড়িতেই আগুন দেয়নি, সাইফুল্লাহর বসতঘরে কুপিয়ে এক পাশের বেড়া ভেঙে ফেলেছে। আমরা এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ভোরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৯ মার্চ ভোরে সেহরির সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ছাত্রলীগ সন্দেহে মারধর করে থানায় সোপর্দ করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ ও মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন তাঁকে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধরের পর শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেন।