রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে কিংবা অন্যের খেতে দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালাতেন আব্দুল হালিম। স্ত্রী ও সাত সন্তানকে নিয়ে অন্যের জায়গায় জীর্ণশীর্ণ ঝুপড়িঘরে কাটছিল তাঁর মানবেতর জীবন। কাজ থাকলে খাবার জুটত, না থাকলে নেমে আসত অভাবের অন্ধকার। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কড়ইগড়া কালিকাবাড়ির এই অসহায় পরিবারের জীবনে অবশেষে দেখা দিয়েছে আশার আলো। তাঁর এই চরম দুর্দশার কথা জানতে পেরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল।
আজ সোমবার বিকেলে সরকারি বিশেষ বরাদ্দে আব্দুল হালিমের জন্য একটি টিনশেড পাকা ঘর, একটি খাট, তোশক ও চাদর দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, সাংসারিক সচ্ছলতা আনতে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি গরু এবং স্ত্রীর কর্মসংস্থানের জন্য একটি সেলাই মেশিনও উপহার দেওয়া হয়েছে।
এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারফ হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান প্রমুখ।
নিজের কোনো জমি না থাকায় ঘর পাওয়া নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল আব্দুল হালিমের। তবে শেষ পর্যন্ত মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তাঁর মামাতো ভাই আবদুর রশিদ। তিনি আব্দুল হালিমকে দুই শতক জমি উপহার দেন। সেই জমিতেই এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে এই অসহায় পরিবারের। অভাবের সংসারে তিন ছেলে ও চার মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে বাস হালিমের। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হলেও ছোটদের নিয়ে সংগ্রাম করতে হতো তাঁদের।
স্বস্তি প্রকাশ করে আব্দুল হালিম বলেন, ‘নিজের জায়গা-জমি ছিল না, অন্যের জায়গায় ঝুপড়িতে দিন কাটাতাম। এখন নিজের ঘর পেয়েছি, সঙ্গে গরু ও সেলাই মেশিনও পেলাম। এতে আমাদের সংসারে কিছুটা হলেও শান্তি ফিরে এসেছে।’
হালিমের মেজ মেয়ে ইয়াসমিন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আগে বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ত, খুব কষ্টে দিন কাটত। এখন নতুন ঘর আর মায়ের সেলাই মেশিন পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হলো।’
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী জানান, আব্দুল হালিমের মতো প্রকৃত অসহায় মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়ালে তাঁদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে তাঁর পরিবার এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল বলেন, ‘আব্দুল হালিমের পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা জানতে পেরে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সরকারের বিশেষ তহবিলের ঘরটি তাঁদের হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি নিরাপদ আশ্রয়, একটি গাভি ও সেলাই মেশিন তাঁদের জীবনে স্বস্তি আনবে। শুধু সাহায্য করা নয়, পরিবারটি যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের বিত্তবানদেরও এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।’