হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

মাদক কারবারে বাধার জেরে হামলা, হাসপাতালে সাবেক যুবদল নেতার মৃত্যু

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহ নগরের কৃষ্টপুর এলাকায় হামলায় আহত সাবেক যুবদল নেতা রাজা মিয়া মারা গেছেন। আজ শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত রাজা মিয়া (৪০) নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্টপুর এলাকার মমরোজ মিয়ার ছেলে। তিনি মহানগর যুবদলের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাজা মিয়ার স্ত্রীর করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে কৃষ্টপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে রাজা মিয়ার ওপর হামলা চালায় কবিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল। এ সময় কবির শাবল দিয়ে রাজা মিয়ার মাথায় আঘাত করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে শয্যা না থাকায় তাঁকে আবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হামলার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে রাজা মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলার প্রধান আসামি কবির (৩০), বিনু (৩৮) ও নিশাত (২৫) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা সবাই কৃষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি কবির ও তাঁর সহযোগীদের মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করেছিলেন রাজা মিয়া। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই রাজা মিয়ার ওপর হামলা করা হয়।

তবে পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, দুই পক্ষই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যদিও কার বিরুদ্ধে কতটি মাদক মামলা রয়েছে, সে বিষয়ে সূত্রটি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।

এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন শাকিল বলেন, যুবদলের সাবেক নেতা রাজা মিয়া আন্দোলন-সংগ্রামে সব সময় দলের সঙ্গে ছিলেন। তাঁকে যে বা যারাই হত্যা করে থাকুক, দ্রুত তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। রাজা মিয়া মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বলেও দাবি করেন জুবায়ের হোসেন।

ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজা মিয়ার মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের স্ত্রীর করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।