ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার সীমান্তবর্তী নদ নিতাই। দীর্ঘদিন ইজারা বন্ধ থাকার পর বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে ধোবাউড়া-হালুয়াঘাটের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উত্তোলিত বালু ট্রাকে ভরে অবাধে চলাচল করায় নষ্ট হচ্ছে হালুয়াঘাটের ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক।
আজ বিকেলে উপজেলার বিলডোরা বাজারে অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন বালুমহাল ও বালু উত্তোলন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক অতিরিক্ত বালুবোঝাই করে সরু ও আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ফলে সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ধোবাউড়ায় কংস নদের সেতু ভেঙে যাওয়ায় বিকল্প পথে হালুয়াঘাট সদর, গাজীরভিটা, বিলডোরা, শাকুয়াই, আমতৈল ও স্বদেশী ইউনিয়নের সড়ক দিয়ে এ সব পরিবহন চলাচলের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বালুবোঝাই করে ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে সড়কের পিচ উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।
তাঁদের দাবি, ওভারলোড বালুবাহী ট্রাকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যানবাহন চলাচল নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষায় সড়কের ক্ষতি আরও বাড়বে এবং পণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। সড়ক রক্ষার্থে অবিলম্বে বালুবাহী ট্রাকের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
ধোবাউড়া নেতাই নদের ইজারাদার হারুন-অর রশিদকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
তবে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে ধোবাউড়া ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে যেন ওভারলোড ট্রাক এ পথে না আসে। হালুয়াঘাট পথে আসা ১০টি ট্রাকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারফ হোসাইন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি অবগত রয়েছি। আগামীকাল থেকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’