ময়মনসিংহে বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে কর্তব্যরত অবস্থায় সোহরাব হোসাইন চৌধুরী (২৩) নামে এক বিজিবি সদস্য নিজের পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খাগডহর এলাকার ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহরাব হোসাইন চৌধুরী ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বাঁশ পাদুয়াগ্রামের আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছেলে।
বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক ইউনুস আলী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহরাব হোসাইন চৌধুরী নামে এক বিজিবি সদস্য নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে রাতেই মরদেহ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে নিহত বিজিবি সদস্য সোহরাব হোসাইন চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো—
'মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম নিয়ে ভালো কিছু আশা করা মহাপাপ। নামে সরকারি চাকরি কিন্তু বেতনটা ওই নামের ওপরই ৭ বছর চাকরি এখনো বাড়িতে গেলে ঠিকমতো একটু কোথাও যাওয়া হয় না। ছুটির সময়টাও চোরের মতো থাকতে হয়। গত কিছুদিন আগে আম্মু খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো মায়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেলাম পরিক্ষা নিরক্ষার পর মায়ের জন্য ঔষধ কিনবো সে টাকা আর হাতে নেই পরে মামার কাছ থেকে ধার নিয়ে মাকে কিছু ঔষধ আর গাড়ি ভাড়া দিলাম।
এমনটা প্রতিমাসেই হতে থাকে না পারি নিজের খুশি মতো একটা জিনিস কিনতে কিনবা একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভালো কিছু খেতে। না পারি পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে তার মধ্যে বর্তমান বাজারের যা পরিস্থিতি এতে বাজার করা কিনবা সংসার চালানো কতটা কঠিন বুঝানোর মতো না
ছোট ভাইটা শারীরিক ভাবে কিছুটা অক্ষম তার জন্য কিছু করবো তার সুযোগ হয়নি এই জীবনে।
এমন পরিস্থিতি মানুষ প্রশ্ন করে বিয়ে করি না কেন। কিন্তু মানুষকে তো আমার সরকারি চাকরির ভেতর টা দেখাতে পারি না আমার বেতন আমার সুযোগ সুবিধা সেভিংস এই সব কিছুতে অন্য একটা মানুষকে আনা আমার জন্য মরার উপর খাঁড়ার খাঁ। তাই বিয়ে শাদীর চিন্তা করিওনা। শুধু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারলে খুশি এমন চাইলাম তাও আর হয়ে উঠলো না ৭টা বছর মানসিক যন্ত্রণা আর অভাবের সাথে যুদ্ধ করতে করতে সত্যি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এইবার একটু রেষ্ট দরকার।
আমার পরিবার সহকর্মী সিনিয়র জুনিয়র আমার বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য পারলে ক্ষমা করবেন এই ছাড়া বিকল্প কোনো পথ আমার ছিল না।'