হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

১৪ শিক্ষকের মাদ্রাসায় দাখিলে পরীক্ষার্থী ৫, পাস করেনি একজনও

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 

কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৪ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এমন ফলাফল হয়েছে উপজেলার কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসায়।

গতকাল সোমবার দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উপজেলার ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৫টি মাদ্রাসা ও ছয়টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নান্দাইলে এই প্রতিষ্ঠানটিই একমাত্র—যেখানে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি।

নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৩ হাজার ৮৮৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৯৭ জন পাস করেছে এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৮৯৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৪ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কড়ইকান্দি গ্রামে ১৯৯৮ সালে কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ১৪ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় এ মাদ্রাসা থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এমন ফলাফলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আকলিমা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা নেই। এতে শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় শিক্ষকদের তদারকিও তেমন ছিল না। ফলে তারা ভালো ফল করতে পারেনি।’

নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত নয়। ফলে সেখানে শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আমাদের তদারকিও তেমন নেই। এ ছাড়া এ বছর পরীক্ষা তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও পড়েছে।’