হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

মাউশির কর্মচারীর সাততলা বাড়ি, স্ত্রীর নামেও বাড়িসহ বিপুল সম্পদ

ইলিয়াস আহমেদ, ময়মনসিংহ  

রইছ উদ্দিন শ্যামল বাবু। ছবি: সংগৃহীত

ঘুষের টাকায় স্ত্রীর নামে পাঁচতলা বাড়ি এবং বিপুল সম্পত্তি কিনেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ কার্যালয়ের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রইছ উদ্দিন শ্যামল বাবু। এর আগে ২০০৪ সালে সরকারি বিদ্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। নগরীতে তাঁর সাততলা, একতলার দুটি আলিশান বাড়িসহ আরও অনেক সম্পত্তি রয়েছে। বাবুর এমন বিলাসী জীবনে আশ্চর্য স্থানীয়রা। এ ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বাবু ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা খাতুনের নামে কমিশন বরাবর চার্জশিট দাখিল করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ কার্যালয়।

ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে প্রথম স্ত্রী হাসিনা খাতুনকে ময়মনসিংহ নগরের গোহাইলকান্দি এলাকায় পাঁচতলার আলিশান বাড়ি নির্মাণ করে দেন রইছ উদ্দিন শ্যামল ওরফে বাবু।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ৩ শতাংশ জায়গার ওপর বাড়িটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় প্রায় দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া বাদেকল্পা এলাকায় ৬ শতাংশ জায়গায় আলিশান সাততলা ভবনের তৃতীয় তলায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন বাবু। এর পাশেই ১৩ শতাংশ জায়গায় রয়েছে একতলা আরেকটি বাড়ি। এই এলাকায় আরও দুটি জায়গা রয়েছে বাবুর। এ ঘটনায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করলে বেরিয়ে আসে তাঁর বিপুল সম্পত্তির হিসাব।

দুদকের মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয় হাসিনা খাতুনের সম্পদ বিবরণের আদেশ জারি করলে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি তা দাখিল করেন। তারপর প্রধান কার্যালয় ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি সম্পদ যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে যাচাই শেষে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি কমিশন রইছ উদ্দিন শ্যামল এবং তাঁর স্ত্রী হাসিনা খাতুনের নামে এজাহারের অনুমতি দেয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে হাসিনা খাতুন ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেন। সেই সঙ্গে ২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৮ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রাখেন। এতে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের হিসাবরক্ষক রইছ উদ্দিন শ্যামল প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

হাসিনা খাতুন তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫২ হাজার টাকার স্থাবর এবং ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকার অস্থাবর সম্পদ ঘোষণা করেন। অনুসন্ধানে তাঁর নামে ১ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর এবং ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে হাসিনা খাতুনের নামে ২ কোটি ১১ লাখ ৯৬ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়।

রইছ উদ্দিন শ্যামল বাবুর সাততলা বাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা

এজাহারে আরও বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে হাসিনা খাতুন একজন গৃহিণী। তাঁর স্বামী একজন সরকারি কর্মচারী। হাসিনার নিজস্ব কোনো আয় না থাকলেও তাঁর স্বামীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার লক্ষ্যে আয়কর নথি খুলে ব্যবসাসহ বিভিন্ন আয় প্রদর্শন করেছেন। যেসবের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার বলেন, দীর্ঘ তদন্তের পর রইছ উদ্দিন শ্যামল এবং তাঁর স্ত্রী হাসিনা খাতুনের নামে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক শাহাদাত হোসেন। তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট কমিশনে পাঠানো হয়েছে। অচিরেই তা অনুমোদন হয়ে এলে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের হিসাবরক্ষক রইছ উদ্দিন শ্যামল সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে বদলি হয়ে এসেছেন।

মাউশির উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাবুর বিষয়ে আমি নিজেও খুব একটা অবগত নই। যেহেতু বিষয়টি দুদক দেখছে, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি তাকে পেতেই হবে।’

অভিযুক্ত রইছ উদ্দিন শ্যামল বাবু বলেন, ‘আমি কী অপরাধ করেছি, সেটা আপনাদের কাছে বলতে বাধ্য নই। যা বলার দুদককেই বলেছি। অন্যায় করলে শাস্তি হবে, তা মেনেই নিয়েছি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, ‘বাবুর দুর্নীতিতে অফিস সিন্ডিকেট দায়ী। আজ বাবু যদি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে থাকে, তাহলে তার বসদের কী অবস্থা ভেবে দেখেন। দেশে এমন শত শত বাবু আছে। আমরা চাই আর যেন নতুন বাবু তৈরি না হয়। তাই বাবু তৈরির কারিগরদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

সম্প্রতি বাবুর বিষয়ে তথ্য নিতে নগরের বাদেকল্পা এলাকায় গেলে উত্তেজিত হয়ে পড়েন তাঁর স্বজনেরা। সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।

বাবুর মা ডলি আক্তার বলেন, ‘আমরা ছেলে কী করছে না করছে, তা আইন দেখছে। নিউজ করে তরা মানসম্মান নষ্ট করলে ছাড় দেওয়া হবে না।’

বাদেকল্পা এলাকার ইফরান আলী বলেন, একটা সময় ভাড়া বাসায় তারা ঠাসাঠাসি করে থাকত। বাবু চাকরিতে যাওয়ার পর কোটি কোটি টাকার মালিক হয়। একাধিক বাসা, জায়গাজমি—কী নেই তাদের। যে আলিশান বাসা প্রথম শ্রেণির একজন কর্মকর্তার কাছেও স্বপ্ন। মূলত আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে তার এমন উত্থান হয়েছে। শুনেছি দুদক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা যেন কোন কারণে থেমে না যায়। তাহলে মানুষ অপরাধ করতে অন্তত হলেও একটু ভাববে।

একই এলাকার বাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানি, বাবু এমপিওভুক্তির ফাইল নয়ছয় করে টাকার পাহাড় গড়ে তোলার পাশাপাশি পেয়েছে পদোন্নতি। একটা সময় অফিসের সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে চলত।’

ছাত্রদের ও এমপির আলটিমেটামের মুখে শাওন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৬

ময়মনসিংহে শাওন হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে রাত ৮টা পর্যন্ত আলটিমেটাম

গফরগাঁওয়ে ভাষাশহীদ জব্বারের বাড়িতে মানুষের ভিড়

ময়মনসিংহে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

খসে পড়ছে পলেস্তারা, সংস্কারে উদ্যোগ নেই

২৪ ঘণ্টায়ও খোঁজ মেলেনি ব্রহ্মপুত্রের চরে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর, মানববন্ধন

হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া ‘চাঁদাবাজমুক্ত’ করার ঘোষণা

ময়মনসিংহে সেনাবাহিনীর ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষ, দুই চালক নিহত

শেরপুরের সেই সংঘর্ষে এবার জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা, হাজারের বেশি আসামি

ব্যবসায়ীদের অভয় দিতে এমপির পক্ষে মাইকিং