হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে কমেছে সেবার মান, বাড়ছে হামের উপসর্গে মৃত্যু

ইলিয়াস আহমেদ, ময়মনসিংহ 

হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন শিশু। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে ২৫ শিশুর মৃত্যু হলো। রোগী বৃদ্ধির পাশাপাশি মৃত্যু বাড়লেও সেবার মান বাড়েনি বলে অভিযোগ স্বজনদের।

গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাত মাস বয়সী শিশুটি। সে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বাসিন্দা। গত ৩০ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল শিশুটি।

মঙ্গলবার সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ১৭ মার্চ থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয় মোট ১ হাজার ৮৮ শিশু। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৮৪ শিশু এবং মৃত্যু হয়েছে ২৫ শিশুর। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৯ শিশু। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২১ শিশু। বর্তমানে মোট ভর্তি রয়েছে ৭৯ শিশু।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর স্বজন হামিদা আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও এখানে সেবার মান খুব একটা বাড়ছে না। আইসিইউ সংকটসহ রয়েছে বেডের স্বল্পতা। অনেক ওষুধপত্র বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।’

ফরিদা ইয়াসমিন নামে আরেক শিশুর অভিভাবক বলেন, ‘হামে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ১১ মাস বয়সী শিশুটি বিছানায় কাতরাচ্ছে। ডাক্তার নিয়মিত না দেখলেও নার্সরা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুঃখের বিষয় হলো, বেশির ভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।'

একই ওয়ার্ডে ভর্তি আরেক শিশুর স্বজন শারমিন সুলতানা বলেন, ‘একই কক্ষে দুটি বেডে দুই শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। স্বজন থাকছে তিন থেকে চারজন। এতে গাদাগাদি হচ্ছে, রয়েছে সংক্রমণের ঝুঁকি। তা ছাড়া স্যালাইন ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না বললেই চলে।'

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘এই হাসপাতালটি এক হাজার শয্যার হলেও প্রতিদিন প্রায় চার হাজার রোগী ভর্তি থাকে। বছরে একবার রোগীদের ওষুধের জন্য বরাদ্দ আসে। সেই বরাদ্দ থেকে ওষুধ বাবদ খরচ করা হয়। হামে প্রতিনিয়ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ওষুধের জন্য কোনো বাড়তি বরাদ্দ নেই। তাই সীমিত বরাদ্দের মধ্যে যেটুকু ওষুধ দেওয়া সম্ভব, তা আমরা দিচ্ছি। বাকি ওষুধগুলো স্বজনদের কিনতে হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরপরই নতুন ভবনের ছয়তলার তিনটি কক্ষে আইসোলেশন কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পরে আমরা ওই ভবনের আটতলায় ১৬টি কক্ষে কার্যক্রম শুরু করি। কিন্তু রোগীর চাপ এতটাই যে কাউকে আলাদা করে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই ওয়ার্ডে হাম রোগী ছাড়া অন্য কেউ থাকছে না। সীমিত জায়গার মধ্যে এ ছাড়া অন্য কিছু করার উপায় নেই আমাদের। তবে আমরা সীমিত জনবল ও সামর্থ্যের মধ্যেও সেবার মান ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’

ময়মনসিংহে বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ৩৯ জন হাসপাতালে

নিখোঁজের ৮ দিন পর ডোবা থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

ভোটার হতে এসে ধরা পড়ল রোহিঙ্গা যুবক

ছেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ, সরকারি অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা

১৫ দিন পর দেশে এল সৌদি আরবে নিহত রুহুল আমিনের মরদেহ, দাফন সম্পন্ন

হালুয়াঘাটে স্ত্রী হত্যার ঘটনায় তিন দিন পর স্বামী গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহে হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৫৮

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে এক দিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে স্বজনেরা

ভালুকায় টিনের চালা থেকে পড়ে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

১৭ ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে রেল চলাচল স্বাভাবিক