হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

হত্যা মামলায় আসামি হয়ে এক মাস ঘরছাড়া, বাড়ি ফিরে দেখেন মালামাল লুট

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

তালা ভেঙে ঘরের ধান-চাল, টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধ শাহেদ আলী (৬৭) হত্যা মামলায় আসামি হয়ে প্রায় এক মাস ঘরছাড়া ছিল একটি পরিবার। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে শুক্রবার বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখেন, ঘরের জানালা ভাঙা এবং দরজায় অন্য তালা ঝুলছে। তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে ধান-চাল, টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের খন্দকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে মালামাল লুটের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে বাদীপক্ষ।

তালা ভেঙে ঘরের ধান-চাল, টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় আহত শাহেদ আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে রফিকুল ইসলাম আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন—মো. বাবুল হোসেন, রহমত আলী, দুলাল মিয়া, মঞ্জুরুল ইসলাম, হৃদয়, মেহেদী, আরশাদ আলী ও মেহের বানু। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে বাকিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা প্রায় এক মাস বাড়ির বাইরে ছিলেন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখেন, ঘরের জানালা ভাঙা এবং দরজায় অন্য তালা লাগানো। ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন মালামাল নেই। এমনকি বাড়ির খড়ের পালা ও চারটি গরুও খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করেন তাঁরা।

মামলার আসামি মেহের বানু বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টের মধ্যে আছি। মামলা হওয়ার পর বাড়িতে থাকতে পারিনি। এখন বাড়িতে এসে দেখি ঘরের এই অবস্থা। আমরা কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—তা বুঝতে পারছি না।’

মেহের বানুর মেয়ে সুফিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী বিদেশে থাকেন। ঘরে থাকা তাঁর গয়না, টাকাপয়সা ও ধান লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

ভুক্তভোগী আরশাদ আলীও ঘর থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ করে সঠিক বিচার দাবি করেন।

তবে ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহত শাহেদ আলীর পরিবারের সদস্য ও মামলার বাদীপক্ষের রোকেয়া খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা শোকের মধ্যে আছি। অন্যের ঘরবাড়ির মালামালের প্রতি আমাদের কোনো লোভ নেই। যেদিন স্বামীকে মারছে, সেদিন বাড়িতে কত মানুষই তো আইছে। বাইরের কেউ কিছু নিয়ে থাকলে সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

চারটি গরু তাঁদের বাড়িতে থাকার বিষয়ে রোকেয়া খাতুন বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর গরুগুলোর দেখভাল ও খাওয়ানোর ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো সেখানে বেঁধে রাখা হয়েছে।

রোকেয়া খাতুনের ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিজেরাই বাবার মৃত্যুর শোক সামলাতে পারছি না। কেন আমরা অন্যের ঘরের জিনিস নিতে যাব? বাইরে থেকে কেউ নিয়ে গেলে সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই।’