ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত নিয়ে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তুলে বিভাগীয় কমিশনার, হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চ। একই সঙ্গে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং অগ্নিকাণ্ডে হতাহত নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে ময়মনসিংহ মঞ্চের সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে কেউ নিহত বা আহত হননি বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে হতাহত হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এ কারণে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই নৈতিক স্খলনের দায়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ময়মনসিংহ থেকে অপসারণ করতে হবে।’
নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক কোটি টাকা করে অনুদান এবং আহত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালের সব অব্যবস্থাপনা দ্রুত দূর করার আহ্বান জানান।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের সিঁড়িগুলো বন্ধ থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সেদিন মাত্র একটি সিঁড়ি খোলা ছিল, বাকি চারটি সিঁড়ি তালাবদ্ধ ছিল। আটতলায় আগুন লাগার পর সাততলা থেকে রোগী ও স্বজনেরা নামতে শুরু করেন। একটি সিঁড়ি দিয়ে এত মানুষ কীভাবে নামবে?’
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে প্রশাসনের গঠিত কমিটিগুলো গ্রহণ না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি মানি না। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডে কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন, তার সঠিক তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।’
গত সোমবার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। এতে লিফটের বাইরের আবরণ পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনেরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে আহত হন। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন দুজনের আগুনের আতঙ্কে আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে।