বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক।
নারীঘটিত ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে কটূক্তি করার জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আশরাফুল হক হলের ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী শহীদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
কিছুক্ষণ পর দুই পক্ষের মধ্যে ফোনালাপের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহীদ শামসুল হক হলের ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে আশরাফুল হক হলে যায়। এ সময় হলের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, জানালার কাচ, সিসিটিভি ও লাইট ভাঙচুর করেন। এ সময় ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা রাত ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হল প্রভোস্টদের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ শুক্রবার বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল জব্বার মোড় এলাকায় আশরাফুল হক হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন শহীদ শামসুল হক হলের ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী। এর কিছুক্ষণ পর দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় দুই হলের আরও ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে গতকাল রাতে ৯ জন ও আজ দুপুরে ৪ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘গতকাল রাতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মারামারি খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মীমাংসা করে দিই। আজ আবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সামান্য বিষয় নিয়ে এমন মারামারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অগ্রহণযোগ্য।’
প্রক্টর আরও বলেন, এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। অতি দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সমাধান করা হবে।