হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ নগর: নিয়ন্ত্রণহীন অটো, বিদ্যুতে চাপ

• নগরীতে নিবন্ধিত অটোরিকশা ১৬ হাজার ৯১৬টি। অনিবন্ধিত প্রায় ২৫ হাজার

• অটোর ব্যাটারি চার্জে প্রতি মাসে খরচ হচ্ছে ১৯ লাখ ২২ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ

• অটোরিকশার চাপ বাড়ায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ঘটছে দুর্ঘটনা

• অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন

ইলিয়াস আহমেদ, ময়মনসিংহ  

অটোরিকশার চাপ বাড়ায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ঘটছে দুর্ঘটনা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহ নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বেড়েই চলেছে। এতে যেমন যানজটে ভুগতে হচ্ছে তেমনি বেপরোয়া চলাচলে ঘটছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি অটোরিকশার ব্যাটারি রিচার্জ করতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে চাপ পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়।

নগরের প্রধান সড়ক চরপাড়া, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাজার, গাঙ্গিনারপাড়, মিন্টু কলেজ, তাজমহল রোড, রেলীর মোড়, পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, জিলা স্কুল মোড়, সানকিপাড়া এবং টাউন হল মোড়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে অটোরিকশার দাপট। ফলে বাড়ছে যানজট, ঘটছে দুর্ঘটনা।

১ সেপ্টেম্বর নগরের রেলীর মোড়ে বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ হারান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান। পাটগুদাম এলাকার বাসিন্দা শাহজাহানের ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাবা হত্যার বিচার চাই না, তবে দাবি হচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হোক।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, নগরীতে নিবন্ধিত অটোরিকশা রয়েছে ১৬ হাজার ৯১৬টি। এর বাইরে অনুমোদনহীন অটোরিকশা প্রায় ২৫ হাজার। এ ছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৪৮ হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে। এর একটি অংশ নগরীতে প্রবেশ করে। ফলে প্রতিদিন নগরীর সড়কজুড়ে থাকে যানজট।

অটোরিকশার আধিক্যের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ হাজার অটোরিকশা চলাচল করে। এসব অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতি মাসে আনুমানিক ১৯ লাখ ২২ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নগরীতে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা অনেক বেশি। এ ছাড়া অনেক সড়ক তুলনামূলক সংকীর্ণ হওয়ায় যানবাহনের চাপ বাড়ছে এবং তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাও সহযোগিতা করছে। যানজট নিরসনে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। অচিরেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর যানজট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান রোকন বলেন, স্বস্তির নগরী গড়ে তুলতে ডিজিটাল কিউআর কোড বা আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অটোরিকশা এবং চালকদের নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চালকদের ছবিসহ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুত হচ্ছে। কেউ লাইসেন্স ছাড়া অটোরিকশা চালালে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে। অক্টোবরের মধ্যেই সড়কে এর প্রতিফলন ঘটবে।

প্রশাসক রুকনোজ্জামান আরও বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে নগরীতে ‘রেস্টিকটেড জোন’ চালু হচ্ছে আগামী মাসে। সেই জোনে প্রতিদিন সব অটোরিকশা প্রবেশ করতে পারবে না। একদিন কিছু অটোরিকশা প্রবেশের সুযোগ পাবে, অন্যদিন অন্যগুলো। এর মাধ্যমে নগরীতে যানজট কমার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলাও ফিরবে।

অটোরিকশাচালক হাবিবুর রহমান বলেন, কোনো উদ্যোগই কাজে আসবে না; যদি অটোরিকশা কমানোর পাশাপাশি রাস্তা প্রশস্ত না করা হয়। আরেক চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে সমস্যা সমাধান হবে না।

টিআইবির ময়মনসিংহ জেলা শাখার সহসভাপতি শরীফুজ্জামান টিটু বলেন, নির্ধারিত ও বৈধ অটোরিকশা চলাচল নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমবে। অন্যদিকে ব্যাটারি চার্জে অতিরিক্ত বিদ্যুতের ব্যবহারও কমে আসবে।

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অটোরিকশা ভয়ংকর একটি যান। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় তা নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি। চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন আইনের কঠোরতা।

ভালুকায় রিসোর্টে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

‘বিয়ের জন্য’ ঋণ না পেয়ে ব্যাংকই লুটের পরিকল্পনা

বর্জ্য সংরক্ষণাগারে মিলছে ময়মনসিংহ মেডিকেলের চিকিৎসাসামগ্রী, সমালোচনা

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক

ভালুকায় শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি, লুট ২০ লাখ টাকার মালামাল

ভালুকায় আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য

গফরগাঁওয়ে ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়কের বাড়িতে গেটের সামনে বিস্ফোরণ

ভাঙনের ঝুঁকি রেখেই শেষের পথে অলহরী-আমলীতলা সড়কের কাজ

মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, পরিবার বলছে ‘মৃত্যু নিয়ে তামাশা’

ঈশ্বরগঞ্জে অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট সিরাজুল গ্রেপ্তার