হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

ছাত্রদল সভাপতির সিট বাতিল, অনুমতি ব্যতীত হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিষেধ

ইলিয়াস আহমেদ, ময়মনসিংহ

কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহির ইবন। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশে (সিবিএমসিবি) সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহির ইবনের হোস্টেলের সিট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কলেজ প্রশাসনের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আজ শনিবার ছাত্রদলের সভাপতি মাহির ইবনের কলেজের সিট বাতিল ও তাঁকে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানাজানি হয়।

কলেজ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, হোস্টেলের সিট বাতিল হওয়া শিক্ষার্থী মাহির ইবন ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের (সিবি-২৭ ব্যাচ) ৫ম বর্ষের ছাত্র। তিনি বর্তমানে শাখা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাঁকে সভাপতি ও ফারহান ইশরাককে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, ১৮ আগস্ট সিবিএমসিবির ৩১ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সিবিএমসিবি ডে’ উদযাপিত হয়। ওই দিন রাতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের (কনসার্ট) সময় হাঙ্গামা এবং পরবর্তী সময়ে কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবনের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ২০ আগস্ট সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ১৭ ও ১৮ আগস্ট ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে মাহির ইবনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বয়কট করা হলো। একই সঙ্গে তাঁর সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের (কমপ্লিট শাটডাউন) ঘোষণা দেন তাঁরা। বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, হোস্টেল প্রাঙ্গণে মাহিরকে পুনরায় দেখা গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ আগস্ট সকালে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মোর্শেদ আলমের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা হয়। সভা শেষে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাহির ইবনের (মেডিকেল রোল-৫৪) বরাদ্দকৃত সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাঁর হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে আহত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রাজিব তুর্জ বলেন, ‘কলেজ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হলে আমি দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় পেছন থেকে আমাকে কে বা কারা ছুরিকাঘাত করেছে—তা আমি দেখিনি। এ সময় ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাহির ইবন ভাই তখন ঘটনাস্থলে ছিল না।’

সিট বাতিল হওয়া ছাত্রদল সভাপতি মাহির ইবন বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বহিরাগতরা নারী শিক্ষার্থীর ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে তাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এতে কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রাজিব তুর্জ ছুরিকাঘাতের শিকার হন। ছাত্রলীগপন্থী কিছু শিক্ষার্থীর চাপে আমাকে হোস্টেল থেকে সাময়িক বহিষ্কার ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিষেধ করেছেন।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমান বলেন, বিষয়টি কলেজের উপাধ্যক্ষ মোর্শেদ আলম ভালো বলতে পারবেন বলে লাইন কেটে দেন। পরে একাধিকবার তাঁর নম্বরে ফোন করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোর্শেদ আলমকে ফোন করলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।