ময়মনসিংহের ভালুকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াস। আজ সোমবার সকালে এ এন এম আয়াস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হামলায় আহত হওয়ার ঘটনায় আজই থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন তিনি।
এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে সংগঠনের কাজে ভালুকায় গেলে একদল দুর্বৃত্তের আক্রমণের শিকার হন এ এন এম আয়াস। রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আল বাদশা জানান, অতর্কিত হামলার পর আয়াস বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ এন এম আয়াস জানান, রোববার দুপুরের দিকে ভালুকার একটি সড়কে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় শারীরিক লাঞ্ছনার পাশাপাশি তাঁকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়।
ঘটনার সত্যতা ও পুলিশের ভূমিকা জানতে যোগাযোগ করা হলে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ফোনের মাধ্যমে আয়াসের সম্ভাব্য নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়।
ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যায় আয়াস নিজেই থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করেন। থানায় প্রায় ১০ মিনিটের মতো অবস্থান করে পানি পান করার পর তিনি একা একাই বেরিয়ে যান। তাঁকে পুলিশি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি জানান যে বাইরে তাঁর নিজস্ব লোক রয়েছে।’
হামলার নেপথ্য কারণ নিয়ে বলতে গিয়ে আয়াস জানান, ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাধা দেওয়া ও মারধরের ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনে ক্রমাগত তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে ৪ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ এন এম আয়াসের ওপর এক হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোমিন মেহেদী ও শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হলে বর্তমানে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন। জুলাই শহীদদের অবমাননা ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে শান্তা ফারজানার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে চড় মেরে প্রথম আলোচনায় এসেছিলেন জুলাই যোদ্ধা আয়াস।