ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মহিদুজ্জামানান ওরফে মোফাচ্ছেল (৪০) নামের এক মৎস্যখামারিকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে হামলার শিকার হন তিনি। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত মোফাচ্ছেল উপজেলার বারবারিয়া ইউনিয়নের বাগবেড় গ্রামের মৎস্যখামারি। অভিযুক্ত হামলাকারী ত্রিশাল উপজেলার সোমপাড়া মোড়লবাড়ি এলাকার মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন তপন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোফাচ্ছেলকে মোবাইল ফোনে মাছের খামারের পাশে আসতে বলেন তোফাজ্জল। মোফাচ্ছেল সেখানে গেলে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তোফাজ্জল। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢামেক হাসপাতালে পাঠান। সেখানে আজ দুপুরে মারা যান মোফাচ্ছেল।
মোফাচ্ছেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত তোফাজ্জলের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে গফরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভান।
গফরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় আগুন নেভান।
নিহত মোফাচ্ছেলের পরিবারের বরাতে গফরগাঁও থানার পরিদর্শক মো. মশিউর রহমান জানান, অভিযুক্ত তোফাজ্জলের স্ত্রীর সঙ্গে ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আলীর সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে তোফাজ্জল তাঁর ভগ্নিপতিকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ভগ্নিপতির সঙ্গে নিহত মোফাচ্ছেলের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। এ জন্য তাঁদের পরস্পরের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। এ কারণে মোফাচ্ছেলকে কুপিয়েছেন তোফাজ্জল। পরে মোফাচ্ছেল মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত তোফাজ্জলকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ছাড়া আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।