হোম > সারা দেশ > মুন্সীগঞ্জ

গজারিয়ায় সুবিধাবঞ্চিতরা পেলেন বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা

গজারিয়া প্রতিনিধি 

গজারিয়ার ইসলামুল হক চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ চক্ষু চিকিৎসা শিবির পরিচালিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে প্রায় এক হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনা মূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ছানি অপারেশনের জন্য ১০০ নারী-পুরুষকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল ৯টায় উপজেলার আনারপুরার গজারিয়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি ও ইসলামুল হক চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ চক্ষু চিকিৎসা শিবির ও ছানি অপারেশনের রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

গজারিয়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, চাঁদপুরের চিকিৎসকদের পরিচালনায় এবং রোটারি ক্লাব অব ধানমন্ডির সহযোগিতায় কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়।

কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মফিজুল ইসলাম আলো, সহসভাপতি মো. এবাদুল্লাহ, যুগ্ম সচিব অ্যাডভোকেট আশরাফুল করিম বাবু, প্রকাশনা সচিব গাজী আলাউদ্দিন, কার্যকরী সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসাইন এবং শহিদুজ্জামান মেনন।

চক্ষু শিবির উপলক্ষে সকাল থেকে চোখের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগা নারী, পুরুষ ও বয়স্ক রোগীরা চিকিৎসা নিতে ভিড় করেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

ছানি রোগীদের চিহ্নিত করে বিনা মূল্যে অপারেশনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। নির্বাচিত রোগীদের প্রাথমিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।

মহাসচিব মফিজুল ইসলাম আলো বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের সভাপতি বিচারপতি এএফএম আব্দুর রহমান প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। গজারিয়া উপজেলার একাধিক কৃতী সন্তানসহ আমরা দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে এই চক্ষু শিবির পরিচালনা করে আসছি। গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধ করাই এই শিবিরের প্রধান উদ্দেশ্য। আমাদের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় রোগীরা জানান, হাতের কাছে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং বিনা মূল্যে ছানি অপারেশনের সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।

সত্তর বছর বয়সী আছিয়া খাতুন বলেন, ‘স্বামী নেই, ছেলেরা অটোরিকশা চালায়। চোখে কম দেখার কারণে স্থানীয় চক্ষু চিকিৎসককে দেখালে দুই চোখে ছানি অপারেশনের কথা বলেন। এতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু এত টাকা সন্তানরা জোগাড় করতে না পারায় অপারেশন করতে পারিনি। এখানে আসার পর তাঁরা বিনা মূল্যে অপারেশন করবেন বলে জানিয়েছেন। আমি খুব খুশি।’