মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে ছেলে পালিয়ে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলশিক্ষক বাবাকে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসিয়ে আটক করানোর অভিযোগ উঠেছে পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম শেখের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেলিম শেখ ও তাঁর ভাই শাহীন শেখ।
আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। আব্দুল রাজ্জাক (রাজু) নামের এক যুবকের স্ত্রী সিমরান ফেসবুক পেজের লাইভে এসে বলেন, চার বছর ধরে রাজুর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে তাঁরা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন।
সিমরানের ভাষ্য, বিয়েটি দুই পরিবার মেনে না নেওয়ায় তাঁদের আত্মীয় সেলিম শেখ ও তাঁর ভাই শাহীন শেখ বাড়িতে গিয়ে তাঁর মায়ের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি করেন। তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিয়ের বিচ্ছেদ ও অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি দেখভালের কথা ছিল ওই চুক্তিতে।
সিমরান জানান, বিষয়টি জানার পর সুযোগ বুঝে তিনি স্বামী রাজুর কাছে চলে আসেন। এরপর সেলিম শেখ ও শাহীন শেখের পরামর্শে তাঁর মা তাঁর ভাশুরের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ উত্তরায় গিয়ে তাঁকে আটক করলেও কোনো দোষ পায়নি বলে দাবি করেন সিমরান।
সিমরানের অভিযোগ, পরে কোনো উপায় না পেয়ে রাজুর বাবা ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ব্রাহ্মণভিটা ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আজিজুর রহমান ঢালীকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বলেন, রাজু ও সিমরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুজন পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন। রাজু ও সিমরান দুজনই টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা। রাজু ওই গ্রামের আজিজুর রহমান ঢালীর ছেলে ও সিমরান রতন মুন্সীর মেয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আজিজুর রহমান ঢালী কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম শেখ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখেছি। আমি ছেলে বা মেয়েটাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।’
শাহীন শেখ বলেন, ‘এলাকায় আমাদের সুনাম রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে আমি বা আমার ভাই জড়িত নই।’
টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহম্মেদ বলেন, আজিজুর রহমানকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।