মুন্সিগঞ্জে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক কাজিকে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব হোসেন অপু ও তাঁর সহযোগী স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রাজীবকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকা থেকে রাজীব হোসেন অপু ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজীব জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতিও।
পুলিশ জানায়, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার কাটাখালী এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে নিকাহ পড়ানো ও বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করছেন কাজি মো. হাবিবুর রহমান। তিনি দৈনিক মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা।
গতকাল বেলা ২টার দিকে রাজীব ও তাঁর সহযোগীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে হাবিবুর রহমানের বাসায় যান বলে অভিযোগ। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাঁকে প্রথমে কাজি অফিসে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে জোর করে সদর উপজেলার মুক্তারপুর এলাকার একটি কক্ষে নিয়ে তাঁকে আটকে রাখা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, সেখানে স্বপন দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী ইতি (২৫) গত ১ অক্টোবর কাজি হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে তাঁকে তালাক দিয়েছেন এবং হাবিবুর রহমান ওই তালাক নিবন্ধন করেছেন। এ নিয়ে হাবিবুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, টাকা না দিলে কাজি হিসেবে তাঁর লাইসেন্স বাতিল এবং তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হাবিবুর রহমান টাকা দিতে রাজি হন। পরে অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ শাখায় নিজের হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে তিনি তা দেন। টাকা পাওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার রাতে হাবিবুর রহমান সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় রাজীব হোসেন অপুকে প্রধান আসামি করে তাঁর সহযোগী স্বপন (৩৫) ও সোহেলের (৪৫) নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ছেলে নাহিদ হাসান বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। মামলা করলে পরবর্তী সময়ে কী হতে পারে, সে বিষয়েও ভয় দেখানো হয়। এরপরও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা করেছেন তাঁরা।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব হোসেন অপু ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।