হোম > সারা দেশ > মুন্সীগঞ্জ

প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার-নগদ অর্থ নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে মামলা

টঙ্গিবাড়ী (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি 

প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে পালিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে প্রবাসী রবিন ঢালীর স্ত্রী লামিয়া আক্তার প্রিয়ার বিরুদ্ধে ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, পাঁচ লাখ টাকা ও দুটি আইফোন ১৫ প্রো-ম্যাক্স নিয়ে অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল রোববার মুন্সিগঞ্জের আদালতে মামলা করেছেন রবিনের বাবা আমিরুল ঢালী।

মামলায় লামিয়া আক্তার প্রিয়া, তাঁর বাবা ধলু হাওলাদার, মা রেহানা বেগম ও লামিয়ার দ্বিতীয় স্বামী মো. রাসেলকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি প্রবাসী রবিন ঢালীর সঙ্গে মুঠোফোনে লামিয়া আক্তার প্রিয়ার বিয়ে হয়। একই দিন হেলিকপ্টারে করে লামিয়াকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। রবিন টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামের আমিরুল ঢালীর ছেলে। লামিয়া একই উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের মালধা গ্রামের ধলু হাওলাদারের মেয়ে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর দুই বছরে লামিয়ার কাছে প্রায় ৩০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি লামিয়া স্বামীর বাড়ি থেকে ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও দুটি আইফোন ১৫ প্রো-ম্যাক্স নিয়ে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তিনি অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন।

মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, ১৬ সেপ্টেম্বর লামিয়ার বাবা ধলু হাওলাদার ও মা রেহানা বেগম রবিনের বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে তাঁরা কাউকে না জানিয়ে সেখান থেকে চলে যান। ২১ সেপ্টেম্বর রবিনের পরিবার জানতে পারে, লামিয়া অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন এবং তাঁকে বিয়ে করেছেন।

প্রবাসী রবিন ঢালী বলেন, স্ত্রীকে কানাডায় নেওয়ার জন্য তিনি আইইএলটিএস করিয়েছেন এবং ভিসা প্রক্রিয়া করছিলেন। হঠাৎ স্ত্রী বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, লামিয়া অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন।

রবিনের দাবি, তাঁকে আইনগতভাবে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে। তাঁর স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রবিন দেশে না থাকায় তাঁর বাবা আদালতে মামলা করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন রবিন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লামিয়া আক্তার প্রিয়া। তিনি বলেন, রবিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও রবিন সংসার করতে আসতেন না এবং তাঁকে কানাডায় নেওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারেননি। এ কারণে তিনি রবিনকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছেন।

লামিয়া বলেন, বিয়ের সময় তাঁকে দেওয়া স্বর্ণালংকার তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তবে নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

লামিয়ার দ্বিতীয় স্বামী মো. রাসেল বলেন, লামিয়ার আগে বিয়ে হয়েছিল, বিষয়টি তিনি জানতেন। প্রথম স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর পারিবারিকভাবে ও ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী লামিয়াকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আইনজীবী হাবিবুর রহমান বাবুল জানান, প্রবাসী স্বামীর স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আমিরুল ঢালী বলেন, ‘আমার পুত্রবধূ আমাদের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। তাই আমি আদালতে মামলা করেছি।’