হোম > সারা দেশ > মুন্সীগঞ্জ

স্কুলে ছেলের সঙ্গে ঝগড়া, শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের আছাড়

সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি  

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও আছাড় দেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকালে প্রস্তুতিমূলক কুচকাওয়াজ শেষে শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করছিল। পূর্বের দিনের (বুধবার) একটি ঝগড়ার জেরে নিজের ছেলে আতিকুর রহমানকে মারধরের সন্দেহে অভিযুক্ত অভিভাবক নাহিদ শেখ (৩৫) হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি শ্রেণিকক্ষের ভেতরই আরেক ছাত্র হাবিবকে (১৩) ধরে পর পর তিনবার আছাড় দেন।

শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের আছাড়। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা সহপাঠীরা আতঙ্কে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত নাহিদ শেখকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান এবং তাৎক্ষণিক বিষয়টি সিরাজদিখান থানা-পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নাহিদ শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটক নাহিদ শেখ পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর জব্বার শেখের ছেলে।

শ্রেণিকক্ষে ঢুকে অভিভাবকের এমন হিংস্র আচরণের ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গতকাল বুধবার দুই ছাত্রের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এ নিয়ে আজ এক ছাত্রের অভিভাবক আরেক ছাত্রকে মারধর করেন। প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার না দিয়ে এভাবে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ছাত্রকে মারধর করা খুবই লজ্জাজনক। এমন কাজ ওই অভিভাবকের করা ঠিক হয়নি।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত অভিভাবক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনার বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।