হোম > সারা দেশ > মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল: পৌরসভার আয়তন বাড়েনি সুবিধাবঞ্চিত শহরের মানুষ

মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার পৌরসভা। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহর। চা-বাগান, ব্যবসা-বাণিজ্য আর পর্যটনের সুবাদে এই শহরে বেড়েছে জনসংখ্যা। তবে ৯০ বছরের বেশি সময়ে শহরের পরিসর বড় হলেও পৌরসভার আয়তন বাড়েনি। এতে পৌর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শহরের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ।

জানা গেছে, ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়তন মাত্র ২.৫৮ বর্গ কিমি। ওই সময়ে পৌরসভায় মাত্র ২ হাজারের মতো বাসিন্দা ছিল। বর্তমানে মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ৯০ বছরের বেশি সময়ে বেশ কয়েকবার পৌর এলাকার আয়তন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শহরের অংশ হয়ে ওঠা আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ইউনিয়নের অধীনেই রয়ে গেছে। এতে পৌরসভার নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্যব্যবস্থাপনার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শহরের বহু মানুষ।

বর্তমানে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি ঘরবাড়ি (হোল্ডিং) রয়েছে। পৌরসভার নিজস্ব বার্ষিক রাজস্ব আয় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। পৌর এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক, ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন, ৬৭৫টি স্ট্রিট লাইট এবং ২ হাজার ৩০০টি পানির লাইন রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের প্রস্তাবে শ্রীমঙ্গল সদর, কালীঘাট ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের রূপসপুর, ভাড়াউড়া, সুইনগর, ফুলছড়া, ভুরভুরিয়া, রামনগর, উত্তরসুরসহ কয়েকটি মৌজা ও গ্রাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে এ-সংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ হয়েছিল। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও সীমানা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০২ সালে পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও সীমানা শেষ পর্যন্ত বাড়েনি।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৯ জুলাই আগের মৌজা ও গ্রামগুলোর সঙ্গে আরও কিছু মৌজা যুক্ত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নতুন করে পৌর সীমানা সম্প্রসারণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে পৌরসভার আয়তন ২.৫৮ থেকে বেড়ে ৯.৫২ বর্গ কিমি হবে। জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখে উন্নীত হবে এবং ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ১২ থেকে ১৪টি হতে পারে।

রূপসপুর এলাকার জাকির আহমেদ বলেন, ‘শহর যখন ছোট ছিল, তখন আমার এলাকা শহরের বাইরে ছিল। এখন শহরের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে আমাদের এলাকা। তবে শহরের আওতাভুক্ত হলেও প্রশাসনিকভাবে এখনো ইউনিয়নের অধীনে রয়েছে আমার এলাকা। এতে অনেক উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। দ্রুত পৌরসভা সম্প্রসারণ বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।’

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পিয়াশ দাশ বলেন, ‘আমার এলাকার সবুজবাগ এখন কার্যত শহরেরই অংশ। কিন্তু ইউনিয়নের আওতায় থাকায় আমার এলাকার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত বরাদ্দ পাওয়া যায়। রাস্তা, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট, বর্জ্যব্যবস্থাপনাসহ মৌলিক নাগরিক সেবায় আমাদের পিছিয়ে থাকতে হচ্ছে। এলাকাটি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন হবে, বরাদ্দ বাড়বে এবং মানুষ প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা পাবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সম্প্রসারণ করতে সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে সরকার বরাবর পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ে সেটি অনুমোদন পাবে।’