মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালাছড়া বনবিটে রাতের আঁধারে মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্র নিয়মিতভাবে বনভূমির গাছ কেটে পাচার করছে। এতে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীন কালাছড়া বনবিটের দুর্গম এলাকাগুলোকে টার্গেট করে গাছচোর চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা আকাশমণি, সেগুন, আগর ও গর্জনের মতো মূল্যবান গাছ কেটে খণ্ড খণ্ড করে পিকআপ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানে করে পাচার করছে।
আজ সোমবার (১ জুন) ভোরে আকাশমণি গাছ পাচারের সময় স্থানীয়রা গাছসহ একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রায়ই রাতের বেলা বনের ভেতর গাছ কাটার শব্দ শোনা যায়। মাঝে মধ্যে গাছবোঝাই যানবাহন বের হতেও দেখা যায়। বাধা দিতে গেলে চোরাকারবারিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়।
তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তার যোগদানের পর থেকেই গাছ পাচারের ঘটনা বেড়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম নাঈম।
তিনি বলেন, “গাছ পাচারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং আমি যোগদানের পর গাছ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা করেছি। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, সোমবার ভোরে গাছসহ একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে কালাছড়া বন তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারাবে। বড় বড় গাছ কেটে ফেলার কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎসও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “বন বিভাগ নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গাছ চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোরে আটক হওয়া গাছ ও অটোরিকশার বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”