মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া উপজেলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননের কাজ শেষ করতে পারেনি প্রশাসন। উপজেলা দুটিতে পৌনে ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কথা ছিল। কিন্তু হয়েছে ১ দশমিক ৩৯০ কিলোমিটার। ফলে অব্যবহৃত প্রায় ২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনায় হতাশার কথা জানিয়েছেন কৃষকেরা। ফেরত দেওয়া ওই বরাদ্দের অর্থ দিয়ে পুনরায় এসব খাল খনন হবে কি না, তা নিয়ে কৃষকেরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়ায় পৌনে ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে ৩৭ লাখ টাকার বেশি কাজ করানো যায়নি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন বলছে, বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল খননকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য অব্যবহৃত অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ভুনবীর ইউনিয়নের আলিয়াছড়া খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ২ দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার খাল খননকাজ শুরু হয়। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময় নির্ধারিত ছিল। তবে এই সময়ে হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাত্র ৬৪০ মিটার খাল খনন করা সম্ভব হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। অব্যবহৃত ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
কুলাউড়া উপজেলায় ভূকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের চকিরমোড়া এলাকা থেকে উত্তরমুখী আন ফানাই এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৩ দশমিক শূন্য ৯ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হলেও ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ৭৫০ মিটার খননকাজ সম্পন্ন হয়। এতে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে প্রকল্পের অবশিষ্ট অংশের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে অব্যবহৃত ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ওই এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান, রাজ্জাক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন পর খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছিল। খননকাজ দেখে কৃষকের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছিল। তবে হঠাৎ তাঁরা শোনেন, কাজের সময় শেষ। আর খনন হবে না। টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির মৌসুমে এত স্বল্প সময়ে কাজ করা সম্ভব নয়। ধীর গতিতে কাজ হওয়ায় বেশির ভাগ খাল খনন করা সম্ভব হয়নি। কাজের সময় যখন কম ছিল তাহলে দ্রুত সময়ে কাজ করানো উচিত ছিল। সময় বাড়িয়ে পুনরায় খাল খননের কাজ শুরু করারও দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৬৪০ মিটার খাল খনন করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি খাল খনন সম্পন্ন করার জন্য। তবে এ বছর আগাম বৃষ্টি হওয়ায় হাওরের পানি বৃদ্ধি পায়।
এ জন্য খননের অংশটুকুতে পানি চলে আসে আর এতে খনন করা সম্ভব হয়নি।’
শ্রীমঙ্গলের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজু চন্দ্র পাল বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজের মান বজায় রেখে ৭৫০ মিটার খননকাজ সম্পন্ন করতে সম্ভব হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে প্রকল্পের অবশিষ্ট অংশের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ও কুলাউড়ার ইউএনও সানজিদা আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, অতি বৃষ্টি ও পানি বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল খননকাজ সম্পন্ন করা যায়নি। কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের অব্যবহৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পুনরায় খননকাজের জন্য আবেদন করে রেখেছেন।
মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, ‘কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গলে বৃষ্টি ও বন্যার জন্য খননকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য সরকারি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমরা খাল খননের জন্য পুনরায় বরাদ্দ ও কাজের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানিয়েছি।’