হোম > সারা দেশ > মেহেরপুর

ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

রায় ঘোষণার পর আদালতে চেতন হারান মো. কলিমুদ্দিন কালু। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেহেরপুরে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. কলিমুদ্দিন কালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় হঠাৎ চেতন হারান সাজাপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য কলিমুদ্দিন কালু। আদালত চত্বরে বেঞ্চে শুইয়ে মাথায় পানি দেওয়া হলেও চেতন না ফেরায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত কলিমুদ্দিন কালু মেহেরপুরের পিরোজপুর গ্রামের আব্দুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে পিরোজপুর গ্রামের এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ করেন কলিমুদ্দিন কালু। পরে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। তখন পালিয়ে যাওয়ার সময় কাউকে ঘটনা না জানানোর জন্য হুমকিও দেন কালু।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামি কালুকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজার আদেশ দেন। রায়ে জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যৎ সম্পদ থেকে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ জন্য আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আইন অনুযায়ী বিক্রি করে অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন ও আসামিপক্ষে আইনজীবী ইব্রাহীম শাহীন মামলা পরিচালনা করেন।