হোম > সারা দেশ > মেহেরপুর

টাকার বিনিময়ে বই দেখে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন শিক্ষার্থীরা, ভিডিও করায় সাংবাদিকদের মারধর

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি 

বই খুলে উত্তরপত্র দেখে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ ও বিএসএস প্রথম বর্ষের ইংরেজি পরীক্ষায় বই দেখে লেখার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। পরীক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে তাঁদের মারধর, মুঠোফোন ও সম্প্রচার সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ শুক্রবার সকালে গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত সাংবাদিকেরা হলেন নাগরিক টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এস এম তারেক।

সাংবাদিক রাব্বি আহমেদ জানান, ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বই খুলে উত্তরপত্র দেখে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, পরীক্ষার্থীরা বই খুলে উত্তর লিখছেন। বিষয়টি মুঠোফোনে ভিডিও করতে গেলে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং অতর্কিত হামলা চালান।

আহত অপর সাংবাদিক তারেক বলেন, ‘বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে শিক্ষকেরা আমাদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আমাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হলে সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিই।’

এদিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মেহেরপুরের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয় সাংবাদিকেরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পরীক্ষাকালে দুজন ভিডিও ধারণ করতে গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক ও পরীক্ষার্থী কয়েকজনের সঙ্গে ওই দুজনের ধাক্কাধাক্কি হয়। সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।