একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং। ফলে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সেচপাম্প চালাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন পাম্পমালিক ও কৃষকেরা। অন্যদিকে বিদ্যুৎনির্ভর পেশার সঙ্গে যুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান, সাইকেল মেকানিকসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয়ও কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘গ্রামে এত বেশি লোডশেডিং হচ্ছে যে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে, কোথাও স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না।’
সাইকেল মেকানিক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় সাইকেল মেরামত ও হাওয়া দেওয়ার কাজ করতে পারছি না। এতে আয় কমে যাচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’
ইলেকট্রিশিয়ান সুজাউদ্দিন বলেন, ‘ফ্যান বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ ঠিকমতো করতে পারছি না। কাজ না থাকায় আয়ও কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।’
কৃষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে জমিতে সময়মতো সেচ দিতে পারছি না। সারা দিন কাজের পর বাড়িতে এসেও স্বস্তি নেই। অথচ বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়।’
কৃষক হুমায়ূন আহমেদ বলেন, ‘মাঠে ফসল রয়েছে, কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে ঠিকমতো সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। গ্রামে এত দীর্ঘ সময় লোডশেডিং সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
ভ্যানচালক রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত ভ্যানে চার্জ দিতে পারছি না। আবার বিদ্যুৎ না থাকায় গ্যারেজেও প্রয়োজনীয় কাজ করাতে পারছি না। এতে আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বামন্দী সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ও অ্যান্ড এম) সৌমিক নাসের বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট, কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ৭ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’
গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১২ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে সাড়ে ৫ মেগাওয়াট। এ কারণেই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’