মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় বাড়িতে ঢুকে এক তরুণীর ডান হাত কুপিয়ে কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগে সায়ন আলী (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন (৫০), তাঁর স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৪২) এবং তাঁদের মেয়ে স্মৃতি আক্তার (২৩)। হামলায় স্মৃতি আক্তারের ডান হাত কবজির ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর মা-বাবাও গুরুতর আহত হন।
গ্রেপ্তার সায়ন আলী ওই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে সায়ন আলী সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্মৃতি আক্তারের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাত কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
স্মৃতির চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর মা-বাবা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন। পরে সায়ন আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
মেহেরপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, স্মৃতি আক্তারের এক হাত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর মা-বাবাও গুরুতর আহত হয়েছেন। কীভাবে ওই যুবক ঘরে প্রবেশ করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। যেহেতু সায়ন আলীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।’
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ঘটনার পর অভিযুক্ত সায়ন পলাতক ছিলেন। বুধবার সকালে মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, সায়ন আলী ও স্মৃতি আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।