মাস পেরিয়ে বছর যায়, বছর পেরিয়ে যুগ। সরকার আসে, সরকার যায়—তবু আলোর মুখ দেখে না মেহেরপুরের সদর উপজেলার হিতিমপাড়া ও গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ভৈরব নদ ওপর সেতু। বছরের পর বছর বাঁশের সাঁকোই দুই উপজেলার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা।
প্রতিবছর বর্ষায় সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে সেটি মেরামত করে চলাচল করতে হয়। এতে একদিকে যেমন কৃষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে, অন্যদিকে প্রতিবছর সাঁকো মেরামতে গুনতে হয় বাড়তি খরচ। বর্ষায় নদে পানি বাড়লে ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার মানুষ যাতায়াত করে। কৃষকদের ফসল আনা-নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একটি সেতু নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।
৮০ বছর বয়সী পথচারী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকেই দেখছি এখানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের এই কষ্ট দূর হয়নি। ভারী যানবাহন নিয়ে অনেক পথ ঘুরে এপার থেকে ওপারে যেতে হয়। কৃষক ও শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। এখানে সেতু নির্মাণ হলে মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।’
পথচারী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘শত বছরের পুরোনো এই খেয়াঘাটে আজও সেতু নির্মাণ হয়নি। সেতু হলে দুই উপজেলার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’
কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, হিতিমপাড়া, চাঁদপুর, রামদাসপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এই সাঁকো পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। বর্ষায় সাঁকোটি প্রায় পানিতে ডুবে যায়। তখন ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে মেহেরপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানান, গাড়াবাড়িয়া-হিতিমপাড়া সেতুর বিষয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে এবং দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান বলেন, ‘হিতিমপাড়া ও গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ভৈরব নদ ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই দুর্ভোগ চলে আসছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’