হোম > সারা দেশ > মানিকগঞ্জ

ষড়যন্ত্র করে জনগণের সরকারকে হটানো যাবে না: মানিকগঞ্জে সালাউদ্দিন টুকু

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  

মানিকগঞ্জে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হটানো যাবে না। সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগী পরিবারের মধ্যে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দল, জনবান্ধব দল। বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন জনগণের ভালো থাকার জন্য কাজ করার চেষ্টা করে। অতীতে গণতন্ত্র যখন হোঁচট খেয়েছে, তখন বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারের বিদায় ঘটিয়েছে। বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এই সরকারকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র যাতে সফল না হয়, সে জন্য সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অতীত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার খুন, গুম ও হত্যা করেছে। শিশু ও আলেমদেরও হত্যা করা হয়েছে।’ সেই ফ্যাসিস্টরা এখন আবার বিভিন্নভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, ‘হুমকি-ধামকি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে রোধ করা যাবে না। ভুল হয়েছে, অনুশোচনা করে ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে হুমকি দেওয়া হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বকনা বাছুর দিয়েই একটি পরিবার ধীরে ধীরে খামারি হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। দুধ ও গবাদিপশু বিক্রির মাধ্যমে পরিবারগুলো আয় করতে পারবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলাকার খাল ও জলাশয়গুলো পর্যায়ক্রমে খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতেও সহায়তা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, দৌলতপুরসহ চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ এলাকার উন্নয়নে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সুফলভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অর্ধশতাধিক দরিদ্র পরিবারের মধ্যে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ করেন। মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের প্রান্তিক খামারিদের নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।