মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় কারাবন্দী আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকে বিএনপির কর্মী দাবি করে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার ঘটনায় বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই ঘটনায় বরাইদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান মল্লিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার জেলা বিএনপির মুখপাত্র ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহারের সই করা পৃথক চিঠিতে দুই নেতার পদ স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়।
চিঠিতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক, নীতিবিবর্জিত ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের পদ স্থগিত থাকবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
জেলা বিএনপির মুখপাত্র নূরতাজ আলম বাহার বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বরাইদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মল্লিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে কেন সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয় তাঁকে।
আব্দুল মান্নান মল্লিক জানান, হোয়াটসঅ্যাপে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি জবাবের খসড়া পাঠিয়েছেন। সরাসরি জবাব জমা দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা ও জেলা যুবদল নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
জেলা যুবদলের সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন বলেন, আব্দুল মান্নান নিয়ম অনুযায়ী জবাব দিয়েছেন। তবে তাঁর জবাবে জেলা কমিটি সন্তুষ্ট নয়। তাঁর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দৈনিক আজকের পত্রিকায় ‘মানিকগঞ্জে কারাবন্দী আ.লীগ নেতাকে ছাড়াতে বিএনপি ও তাঁতী দলের প্রত্যয়ন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ রুহুল আমিন রুবেলকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের স্থানীয় নেতারা পৃথক প্রত্যয়নপত্র দেন।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে গত ২২ সেপ্টেম্বর রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া বিএনপির প্রত্যয়নপত্রে আব্দুল হামিদ, মোয়াজ্জেম হোসেন ও আব্দুল মান্নান মল্লিক সই করেছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয়ভাবে তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপির দুই নেতার পদ স্থগিত ও যুবদল নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।