মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় মা ও ছেলেকে হত্যার মামলায় সোলায়মান হোসেন (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ে অসন্তুষ্ট বাদীপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে এবং আসামিপক্ষ খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলে জানিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সোলায়মান সাটুরিয়া উপজেলার উত্তর কাউন্নারা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। নিহত পারভিন আক্তার (৩৫) সম্পর্কে সোলায়মানের ভাবি।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে সাটুরিয়ার সাফুল্লী গ্রামে নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পারভিন আক্তার ও তাঁর ছয় বছরের ছেলে আব্দুল নূরকে হত্যা করা হয়।
পরদিন পারভিনের মা মজিরন বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সাটুরিয়া থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম ২০২০ সালের ১৪ মে সোলায়মানকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে পারভিনের সঙ্গে সোলায়মানের বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক এবং সম্পর্কের অবনতির জেরে হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে সোলায়মানের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথাও উল্লেখ করা হয়।
মামলায় ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত সোলায়মানকে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম বলেন, রায়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তাঁরা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে দণ্ড দিয়েছেন।
বাদীপক্ষও রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে। বাদীপক্ষের প্রত্যাশা ছিল, জোড়া হত্যার ঘটনায় সোলায়মানের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।