নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’
আজ বুধবার মানিকগঞ্জের বিভিন্ন দুর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনের প্রথম কর্মসূচিতে সিংগাইর উপজেলার আঙ্গাড়িয়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে মণ্ডপ পরিদর্শন শুরু করেন মন্ত্রী। পরে সিংগাইর, হরিরামপুর, দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার আটটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে দুঃসময়েও যারা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের অবদানেই আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি।
মানিকগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দুর্গা পূজামণ্ডপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে সহনশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, টাকার প্রলোভনে না পড়ে যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা উচিত। ব্যক্তিগত ও দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে যেন সাধারণ মানুষ ও এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজখবর নেন এবং প্রতিটি মণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য আর্থিক অনুদান দেন। স্থানীয় আয়োজকেরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরলে তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। এ সময় পূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উৎসবের আয়োজনেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর তাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহানুর রহমান, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বীর ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।