হোম > সারা দেশ > মানিকগঞ্জ

সিংগাইরে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী গ্রেপ্তার, ছুরি উদ্ধার

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিংগাইরে স্বামী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার স্ত্রী হাসনা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে স্বামী রাশেদুল ইসলামকে (৩৮) ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় তাঁর স্ত্রী হাসনা আক্তারকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রাশেদুল ইসলামের বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামে। তিনি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার এসকেএইচ গার্মেন্টসে স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী হাসনা আক্তারও একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তাঁদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ছয় বছর আগে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন রাশেদুল। এরপর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। জমি স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার পারিবারিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। গত ৩ অক্টোবরও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছেলে তাওহিদকে নিয়ে নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান রাশেদুল। অন্য কক্ষে মেয়ে রুমাইয়াকে নিয়ে ছিলেন তাঁর স্ত্রী হাসনা। পরদিন ভোর পৌনে চারটার দিকে বাবার চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায় তাওহিদের। এ সময় সে তার বাবাকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়।

পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা রাশেদুলকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে বাড়ির সামনের কাঁচা সড়কেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হাসনা আক্তার পালিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের মামা মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে হাসনা আক্তারকে আসামি করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা হাসনাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার হাসনা আক্তার পুলিশের কাছে স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করার জন্য আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।