মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে ৯৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৯৯১ হেক্টর জমিতে। ভালো দাম, দ্রুত বিক্রি ও বাড়তি আয়ের আশায় কৃষকেরা আগাম সবজি চাষে করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪১ হেক্টর বেশি জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। গত বছর আগাম সবজি চাষে ভালো লাভ পাওয়ায় এবারও এ আবাদে আগ্রহী হয়েছেন কৃষকেরা।
সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি, জান্না, তিল্লী, দরগ্রাম ও রৌহা এলাকায় মাঠের পর মাঠ এখন সবজিখেত। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শিম, মুলা, করলা, পটোল, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও টমেটোর পাশাপাশি লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক ও ধনেপাতা চাষ হচ্ছে এসব খেতে।
ফুকুরহাটি এলাকার কৃষক নায়েব আলী (৫৫) ৬০ শতাংশ জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগাম সবজি চাষে ভালো দাম পাওয়া যায়। সবজি বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। এখন আর সবজি নিয়ে হাটবাজারে যেতে হয় না। পাইকারেরা খেত থেকেই কিনে নিয়ে যান।’
কৃষকদের ভাষ্য, খেত থেকে সরাসরি পাইকারদের কাছে সবজি বিক্রি করতে পারায় পরিবহন ও বাজারজাতের ঝামেলা কমেছে। এসব সবজি ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
দরগ্রাম-রৌহা এলাকার কৃষক নয়া মিয়া (৫৫) এবার ১৫ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে দুই দফায় প্রায় ছয় মণ বেগুন তুলে প্রতি মণ ১ হাজার ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আরও তিন থেকে চার দফা বেগুন সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
নয়া মিয়া বলেন, ‘অন্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষে লাভ বেশি। খেত থেকেই পাইকারেরা কিনে নেওয়ায় পরিবহন ও বাজারজাতের ঝামেলাও কমেছে।’
চর তিল্লী গ্রামের কৃষক আতাউর হোসেন (৪০) ৩০ শতাংশ জমিতে করলার আবাদ করেছেন। তাঁর মতে, তুলনামূলক কম জমি ও মূলধন নিয়ে সবজি চাষ শুরু করা যায়। অল্প সময়েই ফসল বিক্রির উপযোগী হয়। এতে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আয় করাও সম্ভব। চলতি মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় সবজি চাষ নিয়ে আশাবাদী তিনি।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, সাটুরিয়া সবজি চাষের জন্য পরিচিত একটি উপজেলা। এখানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে উৎপাদিত হচ্ছে। আগাম সবজি চাষে বাজারে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সবজির উৎপাদন আরও বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল বাজারদর বজায় থাকলে আগাম শীতকালীন সবজি তাঁদের ঘরে বাড়তি আয় এনে দেবে।