মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকায় পরিত্যক্ত একটি কারখানার গোডাউনে গোপনে ১৩টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাতের অভিযোগে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত একজনকে এক বছর এবং আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। প্রক্রিয়াজাত মাংস ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার হোটেলে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে জাগীর এলাকার পুরোনো কারখানার গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ২টার দিকে জাগীর এলাকায় অভিযান চালায় সদর থানা-পুলিশ। তখন ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার সময় নয়জনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জবাই করা ১৩টি ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়।
রিক্তা খাতুন জানান, সিংগাইর উপজেলার হিরু নামের এক ব্যক্তি ওই নয়জনকে ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের জন্য ভাড়া করেছিলেন। প্রস্তুত করা মাংস ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার হোটেলে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
রিক্তা খাতুন বলেন, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নয়জনের মধ্যে একজন অন্যদের একত্র করে কাজটির সমন্বয় করছিলেন। এ কারণে তাঁকে এক বছরের এবং অপর আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।’
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব দাশড়া এলাকার মিজানুর রহমান, গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকার রুবেল, জামালপুরের তুলসীপুর এলাকার সোহেল রানা, ঢাকার বাড্ডা এলাকার ইমন হাসান ও তুহিন, গাজীপুরের দিঘিরচালা এলাকার ইব্রাহিম খলিল, ঢাকার বাড্ডা এলাকার মাসুদ জানা, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকার হুমায়ুন কবির এবং ঢাকার বড় বেরাত এলাকার মারুফ।
অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রিক্তা খাতুন, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট আইনের ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে। সিংগাইর উপজেলার হিরু নামের এক ব্যক্তি ওই নয়জনকে ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের জন্য ভাড়া করেছিলেন। তিনি পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।