মানিকগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় ১৪ দিনে ১৫৭টি অভিযান চালিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ ইলিশ শিকার। এ সময়ে প্রায় ৫০ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার বেশি। একই সময়ে ৩২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরপরও পদ্মা-যমুনার দুর্গম নদীপথ ও চরাঞ্চলে গভীর রাতে ইলিশ শিকার, মাছ মজুত ও পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম এলাকায় রাতের আঁধারে ইলিশ ধরা হচ্ছে। ধরা মাছের একাংশ ফ্রিজিং করে নিষেধাজ্ঞা শেষে বেশি দামে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কিছু মাছ সড়কপথে ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩ দিনে দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর ও ঘিওর উপজেলায় ১৫৫টি অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়, যার বাজারমূল্য ৪ কোটি ১৯ লাখ ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৭৬৩ কেজি ইলিশ জব্দ, ১৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২৩টি নিয়মিত মামলা করা হয়। মাছঘাট, আড়ত ও বাজারে ৫২১ বার পরিদর্শনও করা হয়। পরবর্তী হালনাগাদ হিসাবে ১৪ দিনে অভিযানের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭টি এবং জব্দ জালের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ মিটারে দাঁড়ায়।
দৌলতপুরের চরকাটারি এলাকায় অবৈধ ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার তন্নী জানান, অভিযানের সময় অবৈধভাবে ইলিশ শিকারে জড়িত জেলেদের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁদের ওপর হামলা করে। পরিস্থিতির কারণে অভিযান পরিচালনাকারীদের পিছু হটতে হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, জনবল ও বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে অভিযান পরিচালনায় নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। দৌলতপুরে অভিযানের সময় মৎস্য বিভাগের এক কর্মচারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযান ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দিয়ে অবৈধ ইলিশ শিকার বন্ধ করা সম্ভব নয়। দুর্গম নদীপথে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি ইলিশ শিকার, মজুত ও পরিবহন বন্ধে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।