হোম > সারা দেশ > মানিকগঞ্জ

অটোরিকশা চুরি করতে আসা জামাতাকে ধরতে গিয়ে শ্বশুরের মৃত্যু

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি 

নিহত সিদ্দিকুর রহমানের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় অটোরিকশা চুরি করে পালানোর সময় নিজ জামাতাকে আটকাতে গিয়ে সিদ্দিকুর রহমান (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের মারধরে জামাতা রাসেল গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের সাকরাইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সিদ্দিকুর রহমান পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা চালিয়ে রাতে বাড়ি ফেরেন সিদ্দিকুর রহমান। বাহনটি ঘরের পাশে চার্জে দিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১টার দিকে অটোরিকশা রাখার স্থান থেকে হঠাৎ শব্দ পেয়ে সিদ্দিকুর ও তাঁর ছেলে শফিকুর রহমান ঘর থেকে বের হন। এ সময় একজনকে সেখান থেকে চোরের মতো পালিয়ে যেতে দেখে তাঁরা ধাওয়া করে ধরে ফেলেন।

পরে দেখা যায়, আটক ব্যক্তি সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে আশা আক্তারের স্বামী রাসেল। জামাতাকে হাতেনাতে আটকানোর সময় শ্বশুরের সঙ্গে চরম ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিদ্দিকুর রহমান শরীরের সংবেদনশীল স্থানে প্রচণ্ড আঘাত পান। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সিদ্দিকুর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাসেলকে ধরে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেলকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহত সিদ্দিকুরের প্রতিবেশী বাবুল মিয়া জানান, চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জামাতাকে আটক দেখতে পান। ধস্তাধস্তিতে বাধা দিতে গিয়ে তিনিও হাতে আঘাত পেয়েছেন। অন্য দিকে নিহত সিদ্দিকুরের ভাই ইদ্রিস আলীর দাবি, এই ঘটনার পেছনে জামাতা রাসেলের সঙ্গে অন্য কোনো সহযোগীও যুক্ত থাকতে পারে।

নিহত সিদ্দিকুরের মেয়ে আশা আক্তার জানান, তাঁর স্বামীর সঙ্গে আগে থেকেই তাঁদের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বাবার মৃত্যুর উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, অটোরিকশার চার্জার নিয়ে পালানোর অভিযোগে রাসেলকে আটকানোর সময় সিদ্দিকুরের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। এতে সিদ্দিকুর আঘাত পান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।