হোম > সারা দেশ > মানিকগঞ্জ

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মানিকগঞ্জ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অপসারণ দাবি

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি 

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: আজকের পত্রিকা

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্র-জনতা ও জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। তবে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাহাউদ্দিন।

আজ বুধবার দুপুরে ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। পরে হাসপাতালের প্রবেশপথ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মূল ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মানববন্ধনে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন অভিযোগসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং তত্ত্বাবধায়কের অপসারণের দাবিতে স্লোগান দেন। কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পারিবারিক ছবিও প্রদর্শন করা হয়।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনের সময় ডা. বাহাউদ্দিন ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করেছেন। তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মানিকগঞ্জে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সময় আহত ছাত্র-জনতা যাতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে না পারেন, সে সময় হাসপাতালের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে তাঁকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান তাঁরা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।

কর্মসূচিতে আমীর হামজা পিন্টু, আনোয়ার হোসেন, সাইদুর রহমান ও নূরুল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে হাসপাতালে গেলে প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশপথে বাইরে থেকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। পরে হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মাধ্যমে বিকল্প পথের তালা খুলে দেওয়া হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রধান ফটকে তালা থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. বাহাউদ্দিন বলেন, হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি রয়েছেন। ভুল করে কেউ যাতে ওই পথে প্রবেশ না করেন, সে কারণেই প্রবেশপথটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বাহাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সব সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে হয়।’