হোম > সারা দেশ > লালমনিরহাট

অ্যাসিড নিক্ষেপে গৃহবধূ হত্যা, বিচার চেয়ে মহাসড়কে শুয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

মানববন্ধনে আমেনা হত্যার বিচার চেয়ে মহাসড়কে শুয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা। ছবি: আজকের পত্রিকা

লালমনিরহাটে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও গোপনাঙ্গে অ্যাসিড নিক্ষেপে গৃহবধূ আমেনা বেগমকে হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধন চলাকালে নিহত আমেনার মা মহাসড়কে শুয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি তুলে নেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহত আমেনা বেগম আদিতমারী উপজেলার খাতাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একই উপজেলার বড় কমলাবাড়ী গ্রামের আফজাল হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালে আমেনার সঙ্গে আফজাল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট টাকার জন্য আমেনাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। ২০১৭ সালের ২ মার্চ রাতে অবশিষ্ট যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আফজাল হোসেন আমেনার গোপনাঙ্গে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন। এ সময় অন্য আসামিরাও তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

গুরুতর দগ্ধ আমেনাকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গত ২১ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুসনদে মূত্র ও প্রজনন অঙ্গে অ্যাসিডজনিত গুরুতর আঘাত, কিডনি বিকলতা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় আমেনার ভাই জাকির হোসেন মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি আফজাল হোসেন ঘটনার পর থেকেই পলাতক। অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। তাঁরা বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী প্রায় নয় বছর ধরে পলাতক রয়েছেন। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলার অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।