হোম > সারা দেশ > লক্ষ্মীপুর

বিধবাকে ধর্ষণচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে আদালতে মামলা

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি 

প্রতীকী ছবি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে নোমান (৩২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমলনগর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

গত রোববার লক্ষ্মীপুরের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, স্বামী মারা যাওয়ার পর ওই নারী বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। নোমান বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে একা পেয়ে তাঁকে অশালীন প্রস্তাব দিতেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা নোমানকে সতর্ক করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নোমান।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ফেরার সময় নোমান ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির যাতায়াতের রাস্তার পাশের নারিকেল-সুপারিবাগানে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগী বাধা দিলে নোমান গাছের শক্ত লাঠি দিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে ভুক্তভোগী গুরুতর আহত হন।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নিলে ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি দেন নোমান। ভুক্তভোগীর সন্তানকে স্কুলে যাতায়াতের সময় একা পেলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, কমলনগর থানায় এজাহার দিতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তাঁকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

মামলায় সুরমা, মহিন ও ছকিনাকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদীপক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নোমান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। মারামারি নারীরাই করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইস্রাফিল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে কমলনগর থানাকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, আদালতের আদেশের কপি তাঁরা পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।