কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বাংলা টিভির উপজেলা প্রতিনিধি ও কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আহসান উল্লাস।
আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার কুন্ডুপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত উল্লাসকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুন্ডুপাড়ায় পৌর সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যান সাংবাদিক উল্লাস। সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতের এমপি আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন ও এমপির চাচাতো ভাই আনোয়ারের নেতৃত্বে একদল লোক উল্লাসের ওপর হামলা চালায়।
আহত সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের অভিযোগ, কুন্ডুপাড়ায় একটি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে এমপি আফজাল হোসেনের ভাই ও ভাতিজাদের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। পরে সহকর্মী সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার বলেন, পৌর সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এরপরও তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিই। আমার চলে আসার পরপরই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি কে এম আর সাহিন বলেন, আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
হামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে ফোন করলে তাঁর সহধর্মিণী পরিচয়ে একজন জানান, তিনি (এমপি) দেশের বাইরে ওমরাহ পালনে রয়েছেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে, মামলার প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুতই তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।